জয়রাম
একং নিত্যং বিমলমচলং সৰ্ব্বদা সাক্ষীভূতম ।
ভাবাতীতং ত্রিগুণ রহিতং সদ্গুরুং ত্বং নমামি ॥
প্রথম অধ্যায়
১৩৪৮ সালের ২১শে চৈত্র পর্য্যন্ত ফেনী শহরের উপর ৩২ বার
প্রচন্ড এরোপ্লেন যুদ্ধ ফেনী শহরের উপর অনুষ্ঠিত হয় । উহাতে বহু জাপানী
ও বৃটিশ প্লেন ধ্বংস হয়, কয়েক সহস্র লোক আহত হয় । ফেনী শহর লোক
শূন্য হইয়া পড়িল। ধৈর্য্য ধারণ করা আর সম্ভব হইল না। আমরা চঞ্চল
হইয়া উঠিলাম। ফেনী হইতে রেলগাড়ী যোগে ১৬ মাইল উত্তরে ত্রিপুরা
রাজ্যে বিলোনীয়া মহকুমা অবস্থিত। পিতাঠাকুর আমাদের তিন ভাইয়ের
সঙ্গে পরামর্শ করিয়া ১৩৪৯ সালের বৈশাখ মাসে আমাদের কুলগুরু
রামঠাকুরাশ্রিত শশিভূষণ চক্রবর্তীকে সঙ্গে নিয়া পিতাঠাকুরের বিশিষ্ট বন্ধু
অবসরপ্রাপ্ত পোষ্টমাষ্টার নন্দলাল দত্তের নিকট আসিলেন। আমাদের এত
বড় পরিবারের বাসযোগ্য বাসা অথবা বাড়ি পাওয়া গেলনা দেখিয়া নন্দ
বাবু অমরেশ দাসগুপ্তের একটি পরিত্যক্ত গৃহহীন বাড়ি ঐদিন উনার সঙ্গে
দরদাম ঠিক করিয়া দিলে পিতাঠাকুর কুলগুরুকে নিয়া প্রত্যাবর্তন করেন ।
পরে আমরা দুই ভাই কুলগুরুসহ আসিয়া জায়গা রেজিষ্ট্রী করিয়া আষাঢ়
মাসের মধ্যে অস্থায়ীভাবে বসবাসযোগ্য মাটির ভিট মুলিবাঁশের বেড়া, মুলি
বাঁশের তজ্জার ছাউনি ও কাঠের পালা দিয়া ঘর সকল নির্মাণ করিলাম।
দক্ষিণের ভিটিতে ঠাকুর থাকিবার জন্য ৮ হাত বাই ১৩ হাত পূর্ব-পশ্চিমে
লম্বা, উত্তর দরজা, চৌচালা তজ্জার ছাউনি দেওয়া গৃহ নির্মিত হইল । ভিটির
উপর তজ্জার মেটিং দেওয়া হইল। ঠাকুরঘর সংলগ্ন পশ্চিম দিকে ঠাকুরের
হাত মুখ ধুইবার স্থান ও পায়খানা তৈয়ার করা হইল। ঠাকুরঘরের অদূরে
ঠাকুর ভোগ গৃহ নির্মিত হইল । বাড়ির উত্তরের ভিটিতে কাটা বারান্দা দিয়া
দক্ষিণমুখী ঠাকুর বিগ্রহ গৃহ নির্মিত হইল ।
.jpg)
কোন মন্তব্য নেই: