শুধুই নাম করিবেন, শুধুই নাম করিবেন...
ঘোর বিপাকে পড়িয়াও নাম ছাড়িবেন না,
অচিরেই অমৃতের সন্ধান পাইয়া যাইবেন।
জয় রাম জয় রাম।
। যাদবপুর কৈবল্যধাম ।।
চতুর্থ মোহন্ত মহারাজ ভবতোষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমাধি মন্দির। 
এইগুলি রাজরাজার খাদ্য , আমার না।
আমি দরিদ্র ভিখারী ব্রাহ্মণ,
আপনেগো দ্বারে দ্বারে মাইগা খাই।
- শ্রীশ্রী রামঠাকুর ।
রাজসূয় যজ্ঞ উপলক্ষে পূজা আরম্ভ করিলেন ।
নয়টায় পূজা সমাপ্ত করিয়া শ্রীঠাকুর শাস্ত্রীমহাশয়কে ধুতি ও নামাবলি দিয়া রাজসূয় যজ্ঞের পুরোহিত পদে বরণ করিলেন।
শাস্ত্রী মহাশয় ধুতি পরিধান করিয়া নামাবলি গায়ে দিয়া যজ্ঞ আরম্ভ করিলেন।
শ্যামাদা আরতি শুরু করিলেন।
দশটায় শাস্ত্রীমহাশয় যজ্ঞ সমাপন করিয়া,
আহুতি প্রদান করিলেন।
শ্যামাদাও আরতি সমাপ্ত করিয়া ভোগ নিবেদন করিলেন।
ভোগ সরাইবার জন্য গোঁসাইকে নির্দেশ দিয়া,
তিনি শ্রী ঠাকুরকে ভোগ দেওয়ার জন্য দালানে চলিয়া যান।
তখন আমাদের দল কীর্তন করিতেছিল।
কিছুক্ষণ পর মধুদা আসিয়া আমাকে বলিলেন ,
শীঘ্র চল, শ্রীঠাকুর তোকে ডেকেছেন।
আমি মধুদাসহ দালানের বারান্দায় উঠিয়া দেখি শ্যামাদা , পিতাঠাকুর , বড়দা , ঠাকুরভাই ও প্রবীণ ভক্তগণ দাঁড়াইয়া আছেন।
আমি শ্যামাদার নিকট গেলে তিনি কাঁদো কাঁদো স্বরে বলিলেন , আমি রাজভোগ লইয়া শ্রীঠাকুরের সম্মুখে দিবার পর,
ঠাকুর ভোগের দিকে তাকাইয়া বলিলেন,
"এইগুলি কি দিছেন?
এইগুলি রাজরাজার খাদ্য, আমার না।
আমি দরিদ্র ভিখারী ব্রাহ্মণ,
আপনেগ দ্বারে দ্বারে মাইগা খাই।
সব জাইনা শুইনা এইসব উপাদেয় খাদ্য দিয়া
উপহাস করছেন কেন?
আমি আপনেগ উপহাসের পাত্র হইয়া এইখানে আর থাকমু না।
এখনই চইলা যামু।
আমার সামনে থাইকা শীগগির এই রাজভোগ নিয়া চইলা যান।
কে আছেন, "ফণীবাবুরে ডাইকা দেন।"
দরজায় থেকে গুরুভ্রাতা তারাও সকল কথা শুনতেছেন।
আমার জীবনে আমি এই প্রথম শ্রীঠাকুরের এইরূপ মূর্তি দেখলাম।
আমি ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে প্রসাদের পাত্র নিয়া আসি । শাস্ত্রীমহাশয় গিয়া বহু স্তবস্তুতি করার পরও তাকে বিদায়
করে দেন।
যশোদামাও বিফল মনোরথ হয়ে ফিরেছেন ।
এখন তুই গিয়ে যাওয়ায়টা বন্ধ করতে পরিস কিনা দেখ।
বড়দা বলিলেন, "শ্রীঠাকুর জামা গায়ে,জুতা পায়ে,
পুটলি বগলে , লাঠি হাতে নিয়া বসে আছেন তুমি গেলে তোমাকে ঠাকুর কোথাও দিয়ে আসতে বলবে,
তুমি নানা অজুহাত দেখিয়ে পরে নিয়ে যাবে বলবে ।
প্রথমবাবু , ড: দাসগুপ্ত , শুভবাবু আদি সকলেই একই
কথা বলিলেন ।
আমি কি আর করিব ।
গুরুজনদের আদেশ শুনিয়া নিরুপায় ভাবে মাথা নত করিয়া মনে মনে প্রার্থনা করিতেছিলাম।
ঠাকুর আজ আমাকে বাঁচাও,
নতুবা ভয়ঙ্কর বিপদে ফেলিবে
তুমি জান ঠাকুর।
শ্রীঠাকুর পার্ষদ শ্রী ফনীন্দ্র কুমার মালাকার লিখিত ,
" রামভাই স্মরণে
...................................................
"শান্ত হইলে শান্তি পাওয়া যায়" — এই কথায় লুকিয়ে আছে জীবনের মূলমন্ত্র। ঠাকুর বলতেন, নিজের অন্তরের শান্তি ছাড়া বাহ্যিক শান্তি অর্জন সম্ভব নয়। আমরা প্রায়ই শান্তির খোঁজে বিচরণ করি, কিন্তু সেই শান্তি লাভের সঠিক কৌশল জানিনা।
আন্তরিক সংগ্রাম ও অভ্যন্তরীণ অশান্তি
জীবনের ভালো-মন্দ, জয়-পরাজয় ও কামনা-বসনার জটিল গোলকধাঁধায় আমরা নিজেদেরকে ব্যস্ত রাখি। এই ব্যস্ততা আমাদের চিত্তে উদ্বেগ ও দৈন্যতার সঞ্চার করে, যার ফলে জীবন পরস্পর হাহাকার ও অস্থিরতায় জর্জরিত থাকে।
প্রকৃত শান্তি শুধুমাত্র বাহ্যিক জগতের পরিবর্তনে নয়, বরং নিজের অন্তরে শांति ও সমাধানের অভিজ্ঞতায় নিহিত। প্রশ্ন উঠে – কেমন করিয়া আমরা সেই অন্তর্দৃষ্টি ও শাশ্বত শান্তি লাভ করব? কেমন করিয়া আমরা জন্ম-জন্মান্তরের যন্ত্রণাকে জয় করব?
উত্তর সহজ; নিজের মনকে প্রশান্ত করে, আন্তরিকতা ও ধৈর্যের সাথে জীবনের নানান পরীক্ষায় নির্ভীকভাবে লড়াই করতে হবে। নিজের অন্তরের গভীরে গিয়ে, সত্যিকারের শান্তির বীজ সেচে তুলতে হবে।
অনুপ্রেরণার আহ্বান
আসুন, প্রতিদিন নিজের অন্তরে শান্তির খোঁজ করি। জীবনের চ্যালেঞ্জগুলিকে সাহসিকতার সাথে গ্রহণ করে, শান্তি, প্রেম ও সাদৃশ্যের পথে আগানো যাক।
জয় রাম, জয় গুরু 





এই ভাবনার মাধ্যমে আমরা আমাদের জীবনে শান্তির উজ্জ্বল দীপ জ্বালাতে পারি, যা আমাদের পথচলাকে আরো সুগম করে তুলবে।
#দুঃখ কষ্ট গ্রহবৈগুণ্যে হয়। ভাগ্যে যাহা
আছে তাহা ভোগ করিতেই হয়। ভাগ্যে
যাহা নাই তাহা কোথা হইতে আসিবে ?
কাহারও ইচ্ছায় কোনও কিছুই হয় না।
চেষ্টা তো করিতেছেন, চেষ্টা করিতে
আসিবে।


জয় রাম
ভক্তি শব্দের অর্থ হল গুরুর প্রেমময় সেবা। প্রানের ঠাকুর জয় রামকে মন-প্রান ভরে সেবা করা। আমরা যতটা নিজেদের দেহ-গৃহ ও স্বজনদের ভালোবাসি ঠিক ততটা আমাদের জয় রামেরপ্রতিও ভালবাসা থাকতে হবে।
একজন শিশুর মত সরল হয়ে আমাদের ঠাকুরের
প্রতি শরনাগত হতে হবে। সুখে দুখে অবিচল থেকে করতে হবে।
জীব জগতের সবাইকে ভালো রেখো ঠাকুর
জয় রাম শুভ রাত্রি বন্ধুরা গুরুদেবের কৃপায় ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন সবাই 


ভগবান সৃষ্টি করেছেন কেন? এ প্রশ্নের উত্তর ভগবানেরই কাছে। ঠাকুর বলেছেন, এ জগৎ মানুষের মনের সৃষ্টি, ভ্রান্তিমূলক। কিন্তু ভ্রান্তি ব'লে এ-জগৎকে তিনি উড়িয়ে দেন নি। তিনি বলেছেন এ সংসার অর্থ-সত্য উদ্ধার। সত্য হারায় কেন? কী প্রয়োজন? সে প্রয়োজন স্বয়ং ভগবান অর্থাৎ মানব বুদ্ধির অতীত, যাকে "লীলা" বলা হয়ে থাকে। লীলাময় আর লীলায় তফাৎ কল্পনা করতে পারি নি। পার্থিব যে কোন উপমাই প্রয়োগ করতে যাই না কেন, সমস্ত প্রয়াস ব্যর্থতার শূন্য পসরা হাতে নিয়ে ফিরে আসে-যতো বাচো নিবর্তন্তে অপ্রাপ্য মনসা সহ। মনে হয় যেন, মানব জন্মমাত্রই এক একটি সম্ভাবিত গৌরলীলা। জীব সৃষ্টি হয় শুধু ভগবানের লীলার প্রয়োজনে। মানুষের বিরহ ব্যাকুলতার ভিতর দিয়ে তিনি আপনার আনন্দরসকেই আস্বাদন করেন। বিরহিণী রাধাই তার হৃলাদিনী। তা না হ'লে এ দুঃখের সংসারে আসা কেন? একজন ইংরেজ কবি বলেছেন-ভগবান মানুষকে প্রচুর ক্ষমতার সম্ভাবনা দিয়ে পাঠিয়েছেন, তার জন্য সাজিয়ে রেখেছেন বিচিত্র সম্ভোগের পৃথিবী কিন্তু একটি জিনিস তাকে দেন নি, সেটি কী? শান্তি। ভগবান মানুষকে শান্তি দেন নি, পাছে শান্তি সুখের আরামে সে ভগবানকে ভুলে যায়। মনে হয় কবির অনুভূতিটি যথার্থ। দুঃখ কেন?- এ প্রশ্নের উত্তর মানুষ চিরকাল খুঁজে বেড়াচ্ছে। ভগবানের সৃষ্টিতে দুঃখবোধ মানুষেরই বেশী, মানুষই আবার ভগবানকে পায়। পরম দয়াল ভগবান কি বৃথাই মানুষকে কষ্টের সংসারে নিক্ষেপ করেছেন? রবীন্দ্রনাথ গেয়েছেন।
শতবার্ষিকী স্মারক গ্রন্থ
চলমান অংশ ২১৪,,,,।
ভক্তি শব্দের অর্থ হল গুরুর প্রেমময় সেবা। প্রানের ঠাকুর জয় রামকে মন-প্রান ভরে সেবা করা। আমরা যতটা নিজেদের দেহ-গৃহ ও স্বজনদের ভালোবাসি ঠিক ততটা আমাদের জয় রামেরপ্রতিও ভালবাসা থাকতে হবে। একজন শিশুর মত সরল হয়ে আমাদের ঠাকুরের
প্রতি শরনাগত হতে হবে। সুখে দুখে অবিচল থেকে করতে হবে। জীবনকে দয়াল ঠাকুর সেবায় উৎসর্গ করতে হবে। নিস্কাম ভাবে জয় রাম সেবা করার নাম হল ভক্তি।
তুমি দুঃখের বেশে এসেছ বলে তোমায় নাহি ডরিব হে।
সেখানে ব্যথা তোমায় সেথা নিবিড় করে ধরিব হে।
ঠাকুর বলেছেন, মানুষ শব্দের অর্থই জ্ঞানী। জীবজগতের শ্রেষ্ঠ স্তরে মানুষ উঠতে পেরেছে তার জ্ঞানের বলে। জ্ঞান না হলে যে বিরহ বোধ হয় না ভক্তি হয় না, প্রেমও হয় না। ভক্তহৃদয়ে জ্ঞানের শিক্ষা অনির্বাণ কিন্তু বিচারমুখী নয়, সে শিখা শুধু ইন্দ্রিয়দ্বারে লীলার মরীচিকা সৃষ্টি ক'রে টেনে নেয় বিশ্বের রসকেন্দ্রে যেখানে অধিষ্ঠিত রয়েছেন অখিল-রসামৃতমূর্ত্তি সচ্চিদানন্দ-ঘনবিগ্রহ কৃষ্ণ। কৃষ্ণেন্দ্রিয়-প্রীতি-ইচ্ছা অজ্ঞান অন্ধকারের জিনিস নয়। অন্ধ ভক্তি বলিতে যা বোঝা যায় তা নীরন্ধ্র অন্ধকার নয়, তাহা জ্ঞান চিন্তামণির জ্যোতিতে ভাস্বর। সে জ্ঞান বিশ্বের আনন্দকেন্দ্রে সংহত। বিশ্বাসের গভীরতম পৰ্য্যায়কেই অন্ধভক্তি বলা যায়, যেখানে বিশ্বাস সর্বকর্মে সর্বচিন্তায় একনিষ্ঠ রূপ লাভ করেছে।
শতবার্ষিকী স্মারক গ্রন্থ
চলমান অংশ ২১৫,,,,।
●পূজিত শ্রীপট্ পরিবর্ত্তন●
শ্রীশ্রীরামঠাকুর প্রসঙ্গে
¤ ¤ ¤ ¤ ¤ ¤ ¤
মৃণাল মজুমদার
গৃহে পূজিত শ্রীশ্রীঠাকুরের শ্রীপট্ বিশেষ কোন কারণে পরিবর্ত্তন করার প্রয়োজন হতে পারে। পূজিত শ্রীপট্ পরিবর্ত্তন করার সময় কি কি করণীয় তা শ্রীশ্রীঠাকুর স্বয়ং বিশদে নির্দ্দেশ দিয়ে গিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে শ্রীধাম কৈবল্যধাম, পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম আশ্রমের শ্রীমন্দিরে শ্রীপট্ পরিবর্ত্তন এবং শ্রীশ্রীকৈবল্যনাথ-পট প্রতিষ্ঠার ইতিবৃত্ত শ্রীশ্রীঠাকুরের পরমভক্ত অন্যতম পার্ষদ শ্রীযুক্ত সদানন্দ চক্রবর্ত্তী মহাশয়ের একখানি গ্রন্থ থেকে এখানে উল্লিখিত হল। - - - -
মৃনাল
- - - - ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দ। শ্রীশ্রীঠাকুর চট্টগ্রামে শ্রীযুক্ত প্রসন্ন গুপ্ত মহাশয়ের গৃহে শুভবিজয় করিতেছেন। শ্রীধাম প্রতিষ্ঠার দিন নিকটবর্ত্তী হইতেছে। শ্রদ্ধেয় অখিল রায় মহাশয় ঠাকুর মহাশয়ের নিকট জানতে চাইলেন, শ্রীধামে কোন দেবতার মূর্ত্তি স্থাপন করা হইবে। অখিলদার কথা শুনিয়া ঠাকুর বলিলেন, "গৌর-নিতাই রাখতে পারেন, রাধাকৃষ্ণ রাখতে পারেন, শিব রাখতে পারেন, কালী রাখতে পারেন।"
সদানন্দদা বলিলেন যে সেইদিন প্রসন্ন গুপ্তের গৃহে কতিপয় ঠাকুর আশ্রিত ভক্তদের মধ্যে তিনিও উপস্থিত ছিলেন। বয়স্ক ভক্তদের মাঝে তরুণ সদানন্দ অনতিদূরে বসিয়া শ্রীধাম আশ্রমে মূর্ত্তি স্থাপন প্রসঙ্গে ঠাকুর মহাশয়ের উক্তিগুলি শুনিবার পরে অখিলদাকে বলিতে শুনিয়াছিলেন, "ঠাকুর মশায়, আমরা আপনার শ্রীপট্ বসাইতে চাই।" অখিলদার এই কথার উত্তরে শ্রীশ্রীঠাকুর কহিলেন, "আপনেরা কইলেতো হইবো না, সকলের মত নিয়া বসান।"
শ্রীপট্ প্রতিষ্ঠার স্বীকৃতি স্বরূপ শ্রীশ্রীঠাকুরের এমন উক্তি শুনিবার পরে উপস্থিত গণ্যমান্য সকলেই পরমানন্দ বোধ করিলেন। তাঁহারা অনুমানে বুঝিলেন ঠাকুরের শ্রীপট্ প্রতিষ্ঠায় তাঁহার অনিচ্ছা কিছু নাই।
এই রূপে মহাধুমধামের সহিত শ্রীশ্রীকৈবল্যধাম আশ্রম প্রতিষ্ঠা দিবসে সকলের পছন্দ মত মনমোহনদার প্রথম তোলা শ্রীশ্রীঠাকুরের ঊর্দ্ধনেত্র ধ্যানস্থ ছবিখানা প্রতিষ্ঠিত হইল। তৎপর প্রতিদিন তাহাই পূজিত হইয়া আসিতেছিল।
১৯৩১ খৃষ্টাব্দ। ফাল্গুন মাস। দোল পূর্ণিমার পূর্বে চট্টগ্রামে শ্রীযুক্ত বিধুভূষণ মহাশয়ের গৃহে শ্রীশ্রীঠাকুর সর্ব্ব সমক্ষে প্রকাশ করিলেন যে তিনি শ্রীধাম আশ্রমে তিনরাত্রি বাস করিবেন। আশ্রম প্রতিষ্ঠার প্রায় আট মাস পরে চট্টগ্রামে পাহাড়তলী শ্রীশ্রীকৈবল্যধাম আশ্রমে পতিত পাবন ঠাকুর শ্রীরামচন্দ্রদেব মাত্র তিন রাত্রি বাস করিয়াছিলেন। ইহার পর শ্রীরামঠাকুর মহাশয় আর কোনদিন শ্রীদেহে আশ্রমে প্রবেশ করেন নাই। কেহ অনুরোধ করিলে ঠাকুর মহাশয়ের সেই বিখ্যাত উক্তি, - "আমার ত কোন আশ্রম নাই, আপনাদের গৃহই আমার আশ্রম, আশ্রম বাসে গুরুর আজ্ঞা নাই।" যথাসময়ে দোল পূর্ণিমা উৎসবে কৈবল্যধামে শ্রীদেহে শ্রীশ্রাঠাকুরের শুভাগমন ঘটিল। শ্রীশ্রীকৈবল্যনাথ দর্শন করিতে ঠাকুর মহাশয় শ্রীমন্দিরে প্রবেশ করিলেন। পূর্ব্ব প্রতিষ্ঠিত শ্রীপট্ দর্শন করিয়াই ঠাকুর মহাশয় বলিয়া উঠিলেন, "ইনি তো নির্ব্বংশীয়া মূর্ত্তি। এই মূর্ত্তির পূজা হয় না।" শ্রীশ্রীঠাকুরের এবম্বিধ উক্তি শুনিয়া ভক্তদের মধ্যে মৃদু গুঞ্জন উঠিল। এখন উপায় ? ফটোগ্রাফার শ্রদ্ধেয় মনমোহন পাইন মহাশয়ও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁহার নিকট বর্তমান কৈবল্যপট্ সম্বন্ধে ঠাকুরের গুরুদেবের পছন্দ হওয়ার কথা বিস্তারিত ভাবে শুনিয়া সকল ভক্তগণ স্থির করিলেন, পরমগুরুর পছন্দের ছবি কৈবল্যনাথের পট্ বসান হইবে। কিন্তু প্রশ্ন উঠিল পূজিত পটের স্থানে অন্য পট্ স্থাপন করা কি উচিত হইবে? সকল সংঙ্কট মোচন কর্ত্তা যিনি, তিনি যখন স্বয়ং উপস্থিত, তখন ভাবনার কি আছে। সুতরাং পূজিত পটের স্থানে অন্য পট্ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার উপায় জানিতে চাহিলে ঠাকুর মহাশয় পট্ পরিবর্ত্তন কিরূপে করিতে হয় তাহা বিশদে বলিয়া দিলেন। তাহাতে কাহারও বুঝিতে অসুবিধা হইল না যে শ্রীশ্রীকৈবল্যনাথের পট্ স্থাপনে ঠাকুরেরও সম্মতি আছে।
এইবার পট্ পরিবর্ত্তন কিরূপে করা হয় -- শ্রীশ্রীঠাকুরের নির্দ্দেশিত বিবরণ ছিল এইরূপ -- প্রথমে পূর্বের পূজিত শ্রীপট্ অর্থাৎ যে পট্ এতদিন পূজিত হইতেছিল তাঁহানকে নিত্য পূজা যে নিয়মে হইয়া আসিতেছিল সেইরূপ যথযথ ভাবে পূজা করিতে হইবে। তৎপরে পুষ্প পাত্র, কোশাকুশী, তাম্রকুন্ড ইত্যাদি ধুইয়া মুছিয়া এবং পূজার স্থান পরিস্কার করিয়া পুনরায় পূজার আয়োজন করিতে হইবে। এই বার প্রথম শ্রীপটের উপর দ্বিতীয় শ্রীপট্ অর্থাৎ যাঁহানকে প্রতিষ্ঠিত করিতে হইবে তাঁহানকে এমন ভাবে রাখিতে হইবে যাহাতে পূর্বের শ্রীপটখানা সম্পূর্ণ ঢাকা পড়িয়া যায়। এইবার পূজারীকে করজোড়ে প্রার্থনা করিতে হইবে এই বলিয়া - " আপনি কৃপা করিয়া এই শ্রীপটে প্রকাশিত হউন।"
প্রার্থনা অন্তে পূর্বের পূজার ন্যায় পুনরায় যথাযথ পূজা সম্পন্ন করিয়া প্রথম অর্থাৎ পশ্চাতের পট্ খানা পার্শ্ব দিয়া ধীরে ধীরে টানিয়া বাহির করিয়া দেওয়ালে টাঙ্গাইয়া রাখিতে হইবে। বলাবাহুল্য কোনরূপ অসুবিধা না হইলে, শঙ্খ,কাঁসর ঘন্টা বাদ্য এবং বারে বারে হরিধ্বনি উলুধ্বনি করা বিধেয়। কীর্ত্তন হইলে তাহাও চালাইয়া যাইতে হইবে।
এই রূপে চট্টগ্রাম পাহাড়তলী শ্রীকৈবল্যধাম আশ্রম প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কয়েকমাস পরে শ্রীধামে শ্রীশ্রীঠাকুরের উপস্থিতির মধ্যে উপরিউক্ত নিয়মে মহাধুমধামের সহিত প্রথম শ্রীপটের স্থানে বর্ত্তমান শ্রীকৈবল্যনাথের শ্রীপট্ প্রতিষ্ঠার অনুষ্ঠান সুসম্পন্ন হইয়াছিল। সেই হইতে শ্রীশ্রীকৈবল্যধাম আশ্রমে শ্রীকৈবল্যনাথের শ্রীপট্ অদ্যাপিও পূজিত হইয়া আসিতেছেন।
জয় রাম
¤ ¤ ¤ ¤ ¤ ¤ ¤
'ছন্নাবতার শ্রীশ্রীরামঠাকুর'
শ্রীসদানন্দ চক্রব্ত্তী,
( পৃ ৬০, ৬১, ৬২ )
শ্রী শ্রী ঠাকুরের আশ্রম প্রতিষ্ঠা লীলা
অবশেষে ভক্তাধীন ঠাকুরের ভক্তদের ইচ্ছাই পূর্ণ হলো। ভক্তদের সকাতর আহ্বানে আর অনুনয় বিনয়ে, ঠাকুর ভক্তদের মহামিলনের জন্য আশ্রম প্রতিষ্ঠার সদয় অনুমতি দিলেন। তাঁর শ্রীদেহ লীলাকালে--
* * ১। চট্টগ্রাম পাহাড়তলীতে ১৩৩৭ সনের ১০ই শ্রাবণ (১৯৩০ সালের ২৬শে জুলাই) ভক্তদের অক্লান্ত চেষ্টায় শ্রী শ্রী কৈবল্যধাম প্রতিষ্ঠিত হয়। ত্রিণাথের মেলা এ চট্টলা। এখানে বামে চন্দ্রনাথ, ডানে আদিনাথ আর মাঝে বিরাজ করেন কৈবল্যনাথ। চট্টলার শষ্য শ্যামল বিস্তীর্ণ সমতল, এরি মাঝে পার্ব্বত্য ঘনসবুজ বনাঞ্চল, তারি পাশে সদা নৃত্যরত গভীর সাগরের নীলাভ জল।এ হেন ত্রিরূপের প্রাকৃতিক সুষমা মাঝে ভক্তপ্রাণনাথ শ্রী শ্রী কৈবল্যনাথ অধিষ্ঠিত আছেন। শ্রী শ্রী ঠাকুর কৈবল্যধামের মাহাত্ম্য অতি চমৎকার ভাবে বর্ণনা করেছেন। তা সকলে অন্তর দিয়ে অনুধাবন করলে আর কি লাগে? প্রতি বছর শারদীয় দুর্গোৎসবে কৈবল্যনাথের মোহন মুরতিতে মায়ের পূজায় প্রাণ-মন নিবেদন করেন ভক্তগণ। অসংখ্য ভক্তের ভাবাকুতিতে মুখরিত এ উৎসব। ভাবোল্লাসে উল্লাসিত হয় এ উৎসব। ভক্ত প্রাণনাথ শ্রী শ্রী কৈবল্যনাথ সদা বিরাজিছেন এ আনন্দ ধামে। ১৩৩৭ সনের ১৫ই ফাল্গুন শুক্লা একাদশীতে ঠাকুর শ্রী দেহে শ্রী শ্রী কৈবল্যধামে প্রথম প্রবেশ করেন। আসা যাওয়ার মাঝে দোলপূর্ণিমা পর্যন্ত এ সামান্য কিছুকাল এধামে তিনি অবস্থান করেন। এরপর তিনি আর কখনও অন্য কোন আশ্রমে প্রবেশ করেননি, পদার্পণও করেননি। ঠাকুর বলতেন, " আশ্রমে আমার প্রবেশ নাই। স্বয়ং গুরুদেব আশ্রমে প্রবেশে বারণ করে দিয়েছেন। " প্রকৃতপক্ষে, যিনি আপামর ভক্তের অগণিত গৃহাশ্রমে আর সর্বজনের দেহমন্দিরে নিয়ত শান্তে-অনন্তে সদা বসতি করেন তিনি কি করে আশ্রম সীমানায় থাকতে পারেন? আজ শ্রী শ্রী কৈবল্যধাম এক পরম তীর্থ স্থান। সর্ব দেব-দেবী মহামিলন স্থান। এখানে,শ্রী শ্রী কৈবল্যকুণ্ড,শ্রী শ্রী কামশ্রীকুণ্ড, শ্রী শ্রী কৈবল্য শক্তি,শ্রীশ্রী
হরগৌরী মন্দির প্রভৃতি ভক্তগণের পরম পবিত্র স্থান। বর্তমানে ভক্তগণ আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে এ ধামকে অপরূপ সাজে সাজিয়েছেন। ঠাকুরের দয়া পিপাসু ভক্তগণ কৈবল্যধামে নিত্য নিয়ত এসে আনন্দ রসে ভেসে জীবন সার্থক করেন।
(শ্রী শ্রী ঠাকুরের নাম প্রসাদ বই হইতে সংগৃহীত। জয় রাম জয় গোবিন্দ।)
ঠাকুর আমার মেসে এসে যথারীতি তক্তাপোষের উত্তরই আসন গ্রহণ করতেন। এবং আমার খোঁজ খবর নিতেন। আমার একটি primus stove ছিল, আমি stove জ্বালিয়ে হালুয়া তৈরী করে ঠাকুরকে ভোগ দিতাম। ঠাকুর হালুয়া সামান্য একটু গ্রহন করলে আমি ঠাকুরের প্রসাদ ভক্তদের মধ্যে বিতরণ করে দিতাম। আবার কোন কোন দিন দুধ, ফল, মিষ্টি দিয়েও ঠাকুরের ভোগ দিতাম। এই প্রসঙ্গে বলে রাখি, ঠাকুরের আহার ছিল অতি সামান্য। ব্যবহার ছিল ঠিক বাড়ির আপনজনের মত। তাঁর খুব কাছের মানুষ হয়ে তাঁকে বিশেষ মানুষরূপে বোঝা বা উপলব্ধি করা খুবই কঠিন ছিল। কারন তিনি সহজে ধরা দিতেন না। তিনি ছিলেন সামান্যে অসামান্য। সাধারণে অসাধারণ।
জয় রাম 

"কৃপাসিন্ধু রামঠাকুর "----মনোরঞ্জন মুখোপাধ্যায়
.jpg)
কোন মন্তব্য নেই: