শ্রীশ্রী নারায়ণ-শিলার কাহিনী: শ্রীশ্রী রামঠাকুরের অলৌকিক ঘটনা"

 শ্রীশ্রী নারায়ণ-শিলার কাহিনী: শ্রীশ্রী রামঠাকুরের অলৌকিক ঘটনা"

আজ আমরা জানবো শ্রীশ্রী রামঠাকুরের এক মহৎ অধ্যায়ের কথা। নারায়ণ-শিলার অলৌকিক কাহিনী যা আমাদের জীবনে ভগবানের প্রতি বিশ্বাস দৃঢ় করে।শ্রীশ্রী রামঠাকুরের পবিত্র জীবনের একটি অসাধারণ কাহিনী। নারায়ণ-শিলার অলৌকিক মাহাত্ম্য ও ভক্তের অগাধ বিশ্বাসের প্রমাণ

শ্রীশ্রীনারায়ণ-শিলাকে প্রতিষ্ঠা করিবেন।আমি তাহার উপর একটি মন্দির করিয়া দিব।শ্রীশ্রীঠাকুর এই সকল কথা শুনিয়া হতবাক হইলেন। শ্রীশ্রীঠাকুরের সাধনজীবনের শেষ পর্যায় যখন উপস্থিত হইল তখন তাহার কাছে এক গুরুভ্রাতা ছাড়া আর দ্বিতীয় কেহ ছিলেন না।গুরুভ্রাতার কন্ঠে একখন্ড শিলা দোদুল্যমান।সাধনজীবনের শেষ সীমায় আসিয়া তিনি শেষ অঙ্কের শেষ দৃশ্যের কিছুতেই যবনিকাপাত করিতে পারিতেছেন না।

হঠাৎ গুরুদেব এই সঙ্কটমুহুর্তে আসিয়া আবির্ভূত হইলেন।গুরুদেব তাঁহার কমন্ডুল হইতে জল ছিটাইয়া দিয়া বলিলেন, 'রামচন্দ্র এইবার তুমি পূর্ণাহুতি দাও।তোমার সাধনা এইখানেই শেষ হইল।মহাসাধক শ্রীশ্রীরামঠাকুর নূতন ভাবে জন্ম নিলেন। গুরুদেব ঠাকুরকে লোকালয়ে ফিরিয়া যাইবার আদেশ দিলেন।গুরুভ্রাতার কন্ঠে যে নারায়ণ-শিলা ছিল তাহা তিনি খুলিয়া ঠাকুরকে বলিলেন,ভাই রামচন্দ্র,গুরুদেবের নির্দেশেই এই শিলার ভার তোমাকে লইতে হইবে।

এতদিন এই নারায়ণ-শিলা আমার কন্ঠে ছিলেন,এইবার আমি ভারমুক্ত।এই নারায়ণ-শিলার কাহিনীর আদ্যোপান্ত সব তুমি জান।তুমি ছাড়া এই শিলার ভার আর কে নিবে? আজ হইতে এই শিলার সেবাপূজার ভার তোমার উপর রহিল।গুরুদেব গুরুভ্রাতাকে সঙ্গে লইয়া লোকচক্ষুর অন্তরালে চলিয়া গেলেন। শ্রীশ্রীঠাকুর মনে মনে ভাবিতেছেন,এ কি কঠিন দায়িত্ব তাঁহার উপর আসিয়া পড়িল।

এই শিলার নিত্য ভোগ তিনি কি করিয়া দিবেন?শিলার আদ্যোপান্ত তিনি সকলই জানেন।ইহা মিথ্যা নহে।শিলার দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করিলে তিথি নির্ণয় করা যায়।পূর্ণিমার দিন শিলাটির চতুর্দিক আলোকিত হইয়া শুভ্রবর্ণ ধারণ করে।আবার অমাবস্যায় ঘোর কৃষ্ণবর্ণে পরিণত হয়।আশ্চর্য এই শিলা।ঈশ্বরের কি অপরুপ মহিমা,নিজেই নিজের স্বরুপ কৃপা করিয়া দর্শন করাইতেছেন।ইহা দর্শন করিতেছেন যিনি তিনি এক ত্রিকালজ্ঞ জ্ঞানতাপস আত্মজ্ঞানী মহাপুরুষ শ্রীশ্রীরামঠাকুর স্বয়ং। পরবর্তীকালে ঠাকুর এই নারায়ণ-শিলা সম্পর্কে ভক্তজন সমক্ষে নানা ঘটনাপ্রবাহ ব্যক্ত করিয়াছেন।

শ্রীশ্রীঠাকুর লোকালয়ের উদ্দ্যেশ্যে শিলা কন্ঠে ঝুলাইয়া চলিতেছেন।বেশ কিছুদিন পাহাড়-পর্বত ঘন অরণ্য পার হইয়া এক রাজার রাজ্যে আসিয়া উপনীত হইলেন।অনেক কষ্টে রাজসমীপে উপস্থিত হইয়া রাজাকে শিলাটির দায়িত্ব নিতে অনুরোধ করিলেন।রাজা ইন্দ্রনারায়ণ তাঁহার অক্ষমতা জানাইলেন।শ্রীশ্রীঠাকুর পুনরায় অত্যন্ত চিন্তিত মনে পথ চলিতে লাগিলেন।

চলিতে চলিতে ভাবিতেছেন,তবে কি এই শিলার দায়িত্ব কেহই বহন করিবেন না? ইহার সেবাপূজা তিনি কিভাবে করিবেন?এই দুশ্চিন্তা হইতে কে তাঁহাকে আশ্বস্ত করিবেন? ঠাকুরের চোখের জলে কন্ঠস্থ নারায়ণ-শিলা স্নান করিতেছেন।নারায়ণ-শিলা অভুক্ত রহিয়াছেন।এই উপবাসী নারায়ণ-শিলার জন্য তিনি কিভাবে ভোগের ব্যবস্থা করিবেন? 

এই কঠিন প্রস্তরসদৃশ মাটিতে গাছগাছড়া জন্মায় না।চলিতে চলিতে তিনি এক স্থানে গিয়া হঠাৎ দুইটি গাছ দেখিতে পাইলেন।তিনি আনন্দে আত্মহারা হইয়া একটি গাছের ডাল ভাঙ্গিয়া ফেলিতেই দেখিতে পাইলেন-দুধের মত টপটপ করিয়া রস পড়িতে লাগিল।তিনি একটি পাতার উপর তাহা সংগ্রহ করিয়া ঐ শিলাটিকে স্নান করাইলেন।তিনি ভাবিতে লাগিলেন,এখন কি দিয়া তাঁহার ভোগ দেওয়া যাইবে?পরক্ষণেই সম্মুখে চাহিয়া দেখিতে পাইলেন,দূরে কি একটি গাছে কয়েকটি ফল ঝুলিতেছে।তিনি অনেক কষ্টে দুই-তিনটি ফল সংগ্রহ করিয়া আনিলেন; তাহা দিয়াই নারায়ণ-শিলার ভোগ দিলেন এবং নিজেও প্রসাদ গ্রহণ করিলেন। 

দেখিতে দেখিতে সন্ধ্যা হইয়া গেল।ঠাকুর মহাবিপদে পড়িলেন।এই গভীর অরণ্যের মাঝে রাত্রিতে তিনি কোথায় যাইবেন? জনমানবশূন্য স্থান।অন্ধকার পথেই তিনি পথ চলিতে লাগিলেন।হাঁটিতে হাঁটিতে তিনি মনে মনে ভাবিতেছেন,তিনি তো একা নহেন,সঙ্গে আরও একজন আছেন।যিনি সর্বভয়হারী,যিনি সর্বসিদ্ধিদাতা।তিনিতো অকূলের কান্ডারী। ভাবিলেন আজ দুইজনকেই উপবাসী থাকিতে হইবে।ইহা ছাড়া দ্বিতীয় কোন উপায় নাই।

দেখিতে পাইলেন অন্ধকারে কে যেন আসিতেছে।তাহার চোখ দুইটি জ্বলিতেছে।ঠাকুর সামনে দাঁড়াইলেন।এমন সময় একটি বাঘ আসিয়া লেজ নাড়িয়া চলিয়া গেল।ঠিক তাহার পরক্ষণেই আর একটি বাঘ আসিয়া সম্মুখে দাঁড়াইতেই ঠাকুর তাহার দিকে তাকানো মাত্র সে চলিয়া গেল।রক্তপিপাসু হিংস্র বাঘও পথ ছাড়িয়া দেয়,যদি এই বিশ্বাস থাকে যে,রক্ষাকর্তা একমাত্র ভগবান।তিনি রাখিলে মারিতে পারে কে?বিষধর সর্পও ফোঁস ফোঁস করিতে করিতে আসিয়া অন্যপথে চলিয়া গেল।

শ্রীশ্রীঠাকুর হাঁটিতে হাঁটিতে বড়ই ক্লান্ত হইয়া পড়িলেন।এমনই জায়গা যে নিজেও একটু বিশ্রাম করিতে পারিতেছেন না,শিলাটিকেও নামাইতে পারিতেছেন না।ঠাকুরের দেহ অবসন্ন,ক্লান্ত তাঁহার তন্দ্রাও আসাতে তিনি ঘুমাইয়া পড়িলেন। রাত্রি তখন তৃতীয় প্রহর।ঘুম ভাঙ্গিতেই পুনরায় হাঁটিতে আরম্ভ করিলেন।হাঁটিতে হাঁটিতে তিনি ভাবিতে লাগিলেন,লোকালয়ে যাইতে না পারিলে তাঁহার ভাগ্যে কি আছে কে জানে? তিনি হাঁটিতে হাঁটিতে আবছা অন্ধকারে অনেক দূরে অট্টালিকার মত কি যেন একটা দেখিতে পাইলেন।তিনি উৎসাহভরে তাড়াতাড়ি কাছে যাইয়া একটি রাজপ্রাসাদ দেখিতে পাইলেন।

রাত্রি তখনও শেষ হয় নাই।মনে হইল ভোর হইতে আর দেরী নাই।শ্রীশ্রীঠাকুর রাজপ্রাসাদে প্রবেশ করিয়া একেবারে রাজার প্রমোদ কক্ষে উপনীত হইলেন।রাজা ঐ সময় নর্তকীদের লইয়া প্রমোদসাগরে ডুবিয়া আছেন।চারিদিকে মদের গন্ধ।শ্রীশ্রীঠাকুরের দিকে রাজার নজর পড়িতেই তিনি সাপের মত ফুঁসিয়া উঠিলেন,বলিলেন,কে ওখানে? কেমন করিয়া ঐ লোকটা এই প্রমোদকক্ষে ঢুকিল! ঠাকুর রাজার নিকট অনুনয় করিয়া বলিলেন,আপনি এই নারায়ণ-শিলাটির দায়িত্ব লইয়া আমায় দায়মুক্ত করেন।রাজা ক্রোধে ফাটিয়া পড়িলেন।চালাকির আর জায়গা পাও না? কে আছিস,এই ব্রাহ্মণকে গলাধাক্কা দিয়া স্বাপদসঙ্কুল অরণ্যে ছাড়িয়া দিয়া আয়,যাহাতে আজই সে বাঘের পেটে চলিয়া যায়।

রাজককর্মচারী আদেশ পাইয়া ঠাকুরকে সন্ধ্যার পূর্বে এক গভীর অরণ্যে ছাড়িয়া দিয়া চলিয়া গেল।ঠাকুরও মনে মনে ঠিক করিলেন যাঁহাকে ধারণ করিয়া এত দুর্ভোগ তাঁহার দায়িত্ব কিভাবে পালন করিবেন?রাত্রি ভোর হইলে তিনি নারায়ণ-শিলাকে এই স্থানে রাখিয়া প্রস্থান করিবেন।তাঁহার নিজের দায়িত্ব তিনি নিজেই নিবেন।শ্রীশ্রীঠাকুর একটি পাতার উপর নারায়ণ-শিলাকে রাখিয়া তাঁহার পাশেই তিনি শুইয়া পড়িলেন। ঠাকুরের সর্বাঙ্গে অসহনীয় যন্ত্রণা ক্লান্তিতে তাঁহার আর এক পা-ও অগ্রসর হইবার শক্তি নাই।ঠাকুর গভীর নিদ্রায় নিদ্রিত হইলেন।

ঘোর কৃষ্ণবর্ণ অন্ধকার রাত্রি।এই অন্ধকার রজনীতে তিনি ও নারায়ণ নিদ্রিত।শ্রীশ্রীঠাকুর গভীর ঘুমে অচেতন।শেষ রাত্রিতে অরণ্যের মধ্যে হুর হুর শব্দে ঠাকুরের নিদ্রা ভঙ্গ হইল।দেখিতে পাইলেন চারিদিকে মশালের আলো।তিনি ভাবিতে লাগিলেন ডাকাতের দল আসিতেছে! আজ আর রক্ষা নাই।তিনি তাড়াতাড়ি নারায়ণ-শিলাকে কন্ঠে ধারণ করিলেন।এই অন্ধকারে তিনি কোথায়ই বা যাইবেন।কে যে চিৎকার করিয়া উঠিল--এই তো,এই পথে এস।

একজন বলিলেন,ভাল করিয়া খুঁজিয়া দেখ।তাহাকে না পাইলে রাজা আমাদের গর্দান নিবেন।এমন সময় রাজা এবং তাঁহার কর্মচারীগণ দল বাঁধিয়া আসিয়া ঠাকুরের সম্মুখে উপস্থিত হইল।রাজা ঠাকুরের পা ধরিয়া বলিলেন,আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।আমার রাজ্যে চলুন।আমার রাজ্যে নারায়ণ-শিলাকে প্রতিষ্ঠা করিবেন।আমি তাহার উপর একটি মন্দির করিয়া দিব।আপনি ঐ শিলার সেবাপূজার ভার লইয়া আমার রাজ্যে থাকিবেন।

শ্রীশ্রীঠাকুর এই সকল কথা শুনিয়া হতবাক হইলেন।তিনি এই সকল কথার অর্থ কিছুই বুঝিতে পারিতেছেন না।একদিন পূর্বে যিনি তাঁহাকে গলাধাক্কা দিয়া তাড়াইয়া দিয়াছেন,সেই রাজাই আবার তাঁহাকে পায়ে ধরিয়া লইতে আসিয়াছেন।শ্রীশ্রীঠাকুর ইতস্তত: করিতেছেন দেখিয়া রাজা বলিলেন,হে প্রভু! আমার রানী রাত্রিতে স্বপ্ন দেখিয়াছেন এই নারায়ণ-শিলার সেবাপূজার ভার না লইলে আমার রাজ্য ছারখার হইয়া যাইবে।আমার বংশে বাতি দেওয়ার লোক থাকিবে না।

 শ্রীশ্রীঠাকুর বলিলেন,আমি এই শিলা লইয়া অন্য কোথাও যাইব না।এই শিলা এই স্থানেই থাকিবে।আপনার প্রয়োজন হইলে আপনি এই স্থানে মন্দির তৈরী করিয়া সেবাপূজার ভার লইয়া আমাকে মুক্তি দেন।রাজা রাত্রি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লোকজন দ্বারা অরণ্যের চারিদিক পরিষ্কার করাইতে আরম্ভ করিলেন। 

দিবারাত্রি লোকজন পরিশ্রম করিয়া চারিদিক পরিষ্কার করিয়া লাগিল।মন্দির করা হইল।নারায়ণ-শিলা ঐ মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত করা হইল।রাজার একান্ত অনুরোধে ঠাকুর ঐ স্থানে বাৎসরাধিক কাল অতিবাহিত করিয়া সেবা-পূজার কাজ করিতে লাগিলেন। শ্রীশ্রীকৈবল্যনাথ স্মরণে,ডা: খগেন্দ্রনাথ গুপ্ত।


আপনারা যদি শ্রীশ্রী রামঠাকুরের কাহিনীগুলি আরও জানতে চান, তাহলে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন।"

চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন এবং নতুন ভিডিও আপডেট পেতে বেল আইকনটি টিপুন।"

চ্যানেলের লোগো এবং "Sri Sri Ramthakur o Gan - Ganer Vhubon" প্রদর্শিত

শ্রীশ্রী নারায়ণ-শিলার কাহিনী: শ্রীশ্রী রামঠাকুরের অলৌকিক ঘটনা" শ্রীশ্রী নারায়ণ-শিলার কাহিনী: শ্রীশ্রী রামঠাকুরের অলৌকিক ঘটনা" Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel) on ডিসেম্বর ২৪, ২০২৪ Rating: 5

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.