শ্রীশ্রী কৈবল্যধাম, যাদবপুরের পূর্ব ইতিহাস।
ইংরাজি ১৯৪০ সাল হবে। শ্রী শ্রী ঠাকুর তখন কোলকাতায় একটি বাড়ীতে আছেন।একদিন বাবা শ্রী শ্রী ঠাকুরের সামনে বসে আছেন। শ্রী শ্রী ঠাকুর কথা প্রসঙ্গে হঠাৎ বাবাকে বললেন,"আমার মাথা গুঁজবার একটা জায়গা নাই।" একথা শুনে বাবা বললেন," সে কি কথা? আমার তো যাদবপুরে একখান জমি আছে,আপনার পছন্দ হইলে আপনার জন্য সেখানে একটা বাড়ী কইরা দিই।" শ্রী শ্রী দয়াল ঠাকুর রাজী হওয়াতে একটা দিন ঠিক করে বাবা শ্রী শ্রী ঠাকুরকে জমি দেখাতে নিয়ে এলেন। যেখানে এখন নাট মন্দিরে বর্তমানে "তুলসী মঞ্চ" নির্মিত হয়েছে সেইখানেই শ্রী শ্রী দয়ালঠাকুরের শুভ পদার্পণ হয়েছিল।সেই জমি শ্রী শ্রী ঠাকুরের পছন্দ হওয়াতে বাবা যারপরনাই আনন্দিত হলেন। কিন্তু তখন শ্রী শ্রী ঠাকুর একটা কথা বললেন," আমার সঙ্গে রাহু আছে,তাই আমার ক্ষতি তো সে করছেই,আমাকে যে আশ্রয় দেবে তারও ক্ষতি করবে।"
এটা হলো ভক্তের পরীক্ষা। ভক্তের ভগবান কত ভাবেই না পরীক্ষা করেন। শ্রী শ্রী দয়াল ঠাকুরের সেই কথা শুনে বাবা হাসলেন মাত্র।
তখন শ্রী শ্রী ঠাকুর বললেন," এই জমিতে দোতলা বাড়ী হবে। নীচে একখান ঘর,ওপরে একখান ঘর থাকবে,ওপরের সেই ঘর ঘিরে বারান্দা থাকবে যাতে আমি হাঁটাচলা করতে পারি।" আরো বললেন," একতলা থেকে দোতলা যাবার সিঁড়িখানা এমন হবে যাতে একজনের বেশী ওঠানামা করতে না পারে।" শ্রী শ্রী দয়ালঠাকুর দোতলায় থাকবেন,আর যখন ঘন্টা বাজাবেন তখন নীচ থেকে লোক যাবে। যেখানে উনি দাঁড়িয়ে সব নির্দেশ দিচ্ছিলেন সেখানে "শ্রীশ্রী সত্যনারায়ণ
পীঠ" করতে বললেন।আর বললেন,"প্ল্যানটা হয়ে গেলে আগে আমাকে দেখাবেন।"
শ্রী শ্রীঠাকুরের নির্দেশমত প্ল্যান তৈরী হলো।তারপর শ্রী শ্রী ঠাকুরকে দেখানো হলো।শ্রীশ্রী ঠাকুর সম্মতি দিলেন গৃহনির্মাণের জন্য।শ্রীশ্রী ঠাকুর মনের
ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন ' ৪০ ইংরাজীতে এবং গৃহ নির্মাণ সম্পন্ন হলো ' ৪২ ইংরাজীতে।এভাবে শ্রীশ্রী ঠাকুরের গৃহনির্মাণ সম্পন্ন হলো।
তারপর শ্রীশ্রী ঠাকুরের সঙ্গে বাবা দেখা করলে শ্রীশ্রী ঠাকুর সব শুনে আনন্দ সহকারে পঞ্জিকা দেখে একটা দিন ধার্য করলেন গৃহপ্রবেশের জন্য এবং সেই দিনটা হলো " ১৩ ই ফাল্গুন, বাং ১৩৪৯ সন।"
ভক্তদের জানানো হলো সেই দিনটার কথা এবং সেইমত পুজোর বন্দোবস্ত হলো।শ্রীশ্রী ঠাকুর সেদিন ঁকুঞ্জলাল মজুমদারের বাড়ীতে ছিলেন, বাবা সেদিন ভোরবেলা কয়েকজন প্রবীণ ভক্তদের নিয়ে শ্রীশ্রী ঠাকুরকে আনতে গেলেন। শ্রীশ্রী ঠাকুর বললেন,"আমি তো যামু না।" তখন বাবা বললেন, " সেকি কথা! আপনার কথামত আপনার পছন্দমত জমিতে আপনার নির্দেশমত প্ল্যান করে দেখিয়ে বাড়ী বানানো হলো, আবার আপনিই গৃহপ্রবেশের দিন ঠিক করে দিলেন আর এখন আপনি বলছেন যাবেন না!" এই বলে বাবার চোখ দিয়ে জল গড়াতে লাগলো। বাবা খুবই শক্ত মনের মানুষ ছিলেন কিন্তু তবুও নিজেকে সামলাতে পারলেন না। বাবাকে শ্রীশ্রী ঠাকুর সান্ত্বনা দিয়ে বললেন,"আপনি দুঃখ কইরেন না। আমার জুতাখানা নিয়া গিয়া গৃহপ্রবেশ করেন আর আমি সেইখানেই থাকুম,এই বিশ্বাস রাইখেন।" এবং এটা খুবই জোরের সঙ্গে বললেন যে," আমি সেইখানেই থাকুম,এই বিশ্বাস রাইখেন।"
বাবা সেই শ্রীপাদুকা একটি থালার মধ্যে বসিয়ে মাথায় নিয়ে শ্রীশ্রী ঠাকুরের অনুমতি নিয়ে প্রবীণ ভক্তদের সঙ্গে সেই গৃহেতে প্রবেশ করলেন।
ভক্তদের মধ্যে ডঃ জে.এম.দাশগুপ্ত,ইন্দুভূষণ
বন্দোপাধ্যায়, ঁপ্রমথনাথ চক্রবর্ত্তী, ঁপরেশ্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়,ঁ উপেন সাহা,ঁশুভময় দত্ত, ঁলোকেশ্চন্দ্র চক্রবর্তী প্রমুখ প্রবীণ ভক্ত ছিলেন। সেই "শ্রী পাদুকা"আসনে বসিয়ে পুজো হলো,পুজো করলেন স্বয়ং দ্বিতীয় মহারাজ শ্রীমৎ শ্যামাচরণ চট্টোপাধ্যায়। "শ্রী পাদুকা "ই হলো "শ্রী বিগ্রহ "।
এই হলো অধুনা শ্রী শ্রী কৈবল্যধাম, যাদবপুরের পূর্ব ইতিহাস।
জয় রাম

.jpg)
কোন মন্তব্য নেই: