জয় রাম,," আশ্রম পরিকল্পনা "
১৩৩৫ সনের শেষ ভাগে অথবা ১৩৩৬ সনের প্রথম ভাগে শ্রদ্ধাস্পদ বন্ধু ফেনী কলেজের অধ্যাপক শ্রী প্রমথনাথ চক্রবর্ত্তী মহাশয় আমাকে পত্র দ্বারা জানান যে, শ্রীশ্রীঠাকুর নাকি তাঁহার থাকার জন্য একটি আশ্রম করার বিষয় উল্লেখ করিয়াছেন।আমি তদুত্তরে তাঁহাকে লিখিলাম শ্রীশ্রীঠাকুর সম্পর্কে আমি যতটা বুঝিয়াছি তাহাতে তিনি কোন আশ্রমে থাকিবেন বলিয়া আমার মনে হয় না। তিনি সম্ভবতঃ চিরজীবন নানাস্থানে ঘুরিয়া বেড়াইবেন। প্রমথ বাবুর পরের পত্রে জানাইলেন ঠাকুর স্পষ্ট ভাবেই ঐ প্রকাশ করিয়াছেন, সুতরাং সন্দেহের কোন অবকাশ নাই। এই পত্রালাপের কিছুদিন পরে শ্রীশ্রীঠাকুরের দর্শন পাইয়া আমি তাঁহাকে বলিলাম,' আপনি নাকি একটি আশ্রম প্রতিষ্ঠার কথা প্রমথ দাদাকে বলিয়াছেন ? ' ঠাকুর উওর দিলেন,'হ্যাঁ,একটা আশ্রম প্রতিষ্ঠা হইলে, ভালই হয়, এখন বয়স হইয়াছে,এক স্থানে বসিয়া পড়িলে মন্দ হয় না।' তাঁহার এই কথা শুনিয়া আমরা পূর্ণোদ্যমে আশ্রম প্রতিষ্ঠার জন্য উদ্যোগী হইলাম।
ঐ সম্পর্কে পেন্সনপ্রাপ্ত ডি,এস,পি পরম শ্রদ্ধেয় পরলোকগত বন্ধু সুরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য্য মহাশয় ঢাকা হইতে আমাকে জানন যে,১৬,০০০(ষোল হাজার)টাকা হইলে চারিদিক দেওয়ালে ঘেরা কম্পাউন্ডা সহ একটি তৈয়ারী বাড়ী ঢাকায় ক্রয় করা যাইতে পারে। আমি উওরে জানাইলাম তাঁহারা ভাল মনে করিলে উহা খরিদের বন্দোবস্ত করিতে পারেন। তাঁহার পত্র পাইলেই টাকা পাঠাইয়া দেওয়া হইবে। কয়েক দিন পরে তিনি আমাকে জানাইলেন যে ঠাকুর ঐ বাড়ী ক্রয় করার মত দেন নাই ।
ইতিমধ্যে কলিকাতার উপকন্ঠে দমদম ও অন্যান্য স্থানে ভক্তগণ আশ্রমের স্থান খোঁজ করিতে লাগিলেন। শ্রদ্ধেয় বন্ধু রোহিণী কুমার মজুমদার ও ভুবনমোহন মুখোপাধ্যায় পুরী হইতে প্রায় ৩৬ মাইল দূরে সমুদ্রতীরে একজন জার্ম্মাণ কি আমেরিকান ভদ্রলোকের প্রতিষ্ঠিত ইডেন (?) যোগোদ্যান-ক্রয়ের জন্য গরুর গাড়ীতে করিয়া দেখিতে গিয়াছিলেন।তাঁহারা ফিরিয়া আসিয়া শ্রীশ্রীঠাকুরকে বলিলেন যে,স্থানটি খুব মনোরম এবং অপেক্ষাকৃত কম মূল্যেই পাওয়া যাইতে পারে। কিন্ত তথায় থাকিতে হইলে বন্দুক রাখার প্রয়োজন হইবে;কারণ চারিদিকের লোকগুলি ভাল নহে। ইহা শুনিয়া ঠাকুর বলিলেন,যেখানে বন্দুক না রাখিলে থাকা যাইবে না সে স্থানে আশ্রম করার কোন দরকার নাই। - রামচন্দ্র দেব স্মরণে,শ্রীশুভময় দত্ত।
.jpg)
কোন মন্তব্য নেই: